ইউরিক অ্যাসিড হলো শরীরের বর্জ্য পদার্থ । এই বর্জ্য পদার্থ শরীরের থেকে বাহিরে বার করে দেওযার কাজটি করে কিডনি, কিডনি কোন ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ,হলে অন্যান্য বর্জ্য পদার্থের মতো ইউরিক অ্যাসিড ও আমাদের শরীরের জমতে থাকে । মূলত আমাদে শরীরে খাবার হজমের সময় ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এটা মূত্রের স্বাভাবিক উপাদান কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বাড়লে ও আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায়, এর ফলে বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের ভিতরে জমতে থাকে ।
কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে?
ইউরিকঅ্যাসিডের লক্ষণ :-
১। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে।গাঁটেগাঁটে ব্যথা, ওপেশিতে টান ধরার মত সমস্যা হতে পারে ।
অনেক সময় আমাদের কানের পিছনের দিকে সাবুদানার আকৃতিতে ছোট গোল লাল রঙের দানা দেখা দেয়। যদিও এটি শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে ।এটি ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে হতে পারে ।
২। আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কিডনিতে স্টোন ও হতে পারে । কারণ বাড়তি ইউরিক অ্যাসিডই আমাদের শরীরের অস্থিসন্ধিতে জমে, এছাড়া মূত্রনালীতে থিতিয়ে পড়ে স্টোনের আকার নিতে পারে ।
৩। আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পেলে, প্রসাবে সংক্রমণ হতে পারে । যেমন প্রসাবে জ্বালা পোড়া প্রসাবে গন্ধ , প্রসাবে রক্ত পর্যন্ত আসতে পারে ।
৪। আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এছাড়া ডায়াবিটিস, হৃদযন্ত্রের সমস্যা হতে পারে ।
ইউরিকঅ্যাসিডের কারণ
বিশেষজ্ঞদেরমতে আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের বৃদ্ধির অনেকগুলো কারণ আছে ।
কারণ গুলি
১।আমাদের শরীরে হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, ডায়াবিটিস, স্থূলতার মতো সমস্যা থাকলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে ।
২। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলের ফলে আমাদের শরীরে বৃদ্ধি পেতে পারে ইউরিক অ্যাসিড মতো সমস্যা ।
৩। জল খাওয়ার পরিমাণ কম হলেও আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে ।
৪. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ও অনেক সময় আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে ।
৫। বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যধিক মাত্রায় মদ্যপান করলে আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে ।
যাঁদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাঁদের খাওয়া দাওয়া এবং লাইফস্টাইল নিয়ে বিশেষ ভাবে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে ।
যে সমস্ত খাবার ত্যাগ করতে হবে ।
১। চিনিযুক্ত খাবার:- যে সমস্ত খাবারে কৃত্রিম রং, চিনি দেওয়া , কোলা জাতীয় পানীয়, রং দেওয়া জেলি, জ্যাম, কৌট বন্দি ফ্রুট জ্যুস খাওয়া চলবে না। এই সমস্ত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ রয়েছে যা আমাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়
২।ডাল :- ডালে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে তাই ,ডাল খেলে আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে ।তাই অত্যধিক পরিমাণে ডাল খাওয়া চলবে না ।
৩।মাংস, সামুদ্রিক মাছ :-মাংস, সামুদ্রিক মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে যা আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডেরমাত্রা বাড়তে সাহায্য করে ।
৪।কার্বোহাইড্রেট :' কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন পাউরুটি, কেক এবং কুকিজ প্রভৃতি আপনার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে ।
৫।শাক সবজি:- বেশ কিছু শাক সবজি আছে, যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে যা আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে । যেমন ফুলকপি, পালং শাক, মটর ও মাশরুম এই ধরনের সব্জি ।
৬।মদ্যপান :- মদ্যপান মোটেই করা যাবে না, এতে
প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে, যা আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
যে সমস্ত খাবার খেতে হবে :-
১।জল :- আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে, যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি খেতে হবে, সটা হলো জল , যেটা খেলে আমাদের ইউরিনের মাধ্যমে আমাদের শরীরের সমস্ত টক্সিন বার হয়ে যাই
তাই প্রতিদিন তিন লিটারের বেশি জল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে ।
২।ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার :-ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে ।ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন আম্লকি, পেয়ারা, কিউই, মিষ্টি লেবু, কমলা লেবু, ক্যাপসিকাম, লেবু, ।
৩।ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার :- ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সব থেকে যেটা করতে হবে, সেটা হলো উচ্চমাত্রায় ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে ।ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে ।ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য হিসাবে ইসবগুল, ওটস, ব্রোকলি, আপেল, কমলা, নাশপাতি, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, শসা, সেলারি, এবং গাজর, বার্লি ইত্যাদি খেতে পারেন। কলাও ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।
৪।বেরি:'- স্ট্রবেরি, এবং ব্লুবেরির এদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। ইউরিনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় ।এবং ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে ।জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ও সাহায্য করে ।
৫।গ্রিন টি:- গ্রিন টি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।
এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে ।
৬।আপেল :- আপেল হল ম্যালিক অ্যাসিডের সমৃদ্ধ একটি খাবার যা আমাদের ইউরিক অ্যাসিড নিষ্ক্রাষণে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৭।বিনসের রস :- বাতের ব্যথায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এই বিনসের রস , তাই নিয়মিত বিনের রস পান করুন । বাতের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ।
Related Articles :-
0 মন্তব্যসমূহ